আজ বুধবার মঠবাড়িয়া মুক্ত দিবস - মঠবািড়য়া সমাচার

শিরোনাম

Post Top Ad

Wednesday, 18 December 2019

আজ বুধবার মঠবাড়িয়া মুক্ত দিবস

দেবদাস মজুমদারঃ ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হলেও পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া তখনও ছিল স্বাধীনতাবিরোধীদের দখলে। মুক্ত হয় দুই দিনের মাথায় ১৮ ডিসেম্বরস্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা জানান, ১৭ ডিসেম্বর দিবাগত ভোররাতে সুন্দরবন অঞ্চলের সাবসেক্টরের কমান্ডিং অফিসার লে. আলতাফ হোসেনের নেতৃত্বে চার শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা সুন্দরবন অঞ্চল থেকে  মঠবাড়িয়ায় রওনা দেন। সংগঠিত মুক্তিযোদ্ধারা মঠবাড়িয়ায় স্বাধীনতাবিরোধীদের পরাস্ত করতে মঠবাড়িয়া শহর থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে কালিরহাট বাজারে অবস্থান নেন। অপরদিকে, সুন্দরবনের শরণখোলা থেকে ওই রাতে আরো ১২০ জনের একটি মুক্তিযোদ্ধা দল কালিরহাট বাজারে অবস্থান নেওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে যোগ দেয়। এতে মুক্তিযোদ্ধাদের শক্তি বৃদ্ধি পায়। মুক্তিযোদ্ধাদের ওই সশস্ত্র অবস্থান টের পেয়ে স্থানীয় স্বাধীনতাবিরোধী চক্র ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। ওই রাতেই তারা মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চালায়। মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে স্বাধীনতাবিরোধীদের আত্মসমপর্ণের প্রস্তাব পাঠায়।তারা  আত্মসমর্পণ করলে বিনা রক্তপাতে মঠবাড়িয়া অঞ্চল শত্রুমুক্ত হয়। এরপর ১৮ ডিসেম্বর  সকালে  কালিরহাটে অবস্থান নেওয়া মুক্তিযোদ্ধারা বিজয় উল্লাস করতে করতে মঠবাড়িয়া শহরে প্রবেশ করেন। মুক্তিযোদ্ধারা বিজয়ের শ্লোগানে বীরদর্পে মঠবাড়িয়া শহরে প্রবেশ মুখরিত করে তোলেন। এভাবে ১৮ ডিসেম্বর মঠবাড়িয়া শক্রু মুক্ত হয়।পরে ২০ ডিসেম্বর বিকেলে শহরের শহীদ মোস্তফা খেলার মাঠে মুক্তিযোদ্ধদের সংবর্ধনা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। আজ বুধবার (১৮ডিসেম্বর) মঠবাড়িয়া মুক্ত দিবস উপলক্ষে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ঐতিহাসিক কালিরহাট বাজারসংলগ্ন কালভার্টের কাছে স্বাধীনতার  ৪৫ বছর পর নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হবে। এখানে নির্মিত ঐতিহাসিক ম্যুরাল এবার বিজয় দিবসে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়েছে।মুক্তিযুদ্ধে মঠবাড়িয়ায় উপজেলায় মোট ৫১ জন স্বাধীনতাকামী বাঙালি  প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন।

No comments:

Post a comment

Post Top Ad

Responsive Ads Here