বলেশ্বর নদীতে অবৈধ বাঁধা জাল পাতার সিরিয়াল নিয়ে জেলেদের মধ্যে উত্তেজনা - মঠবািড়য়া সমাচার

শিরোনাম

Post Top Ad

Monday, 27 April 2020

বলেশ্বর নদীতে অবৈধ বাঁধা জাল পাতার সিরিয়াল নিয়ে জেলেদের মধ্যে উত্তেজনা

স্টাফ রিপোর্টার: পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার তুষখালী ইউনিয়নের বলেশ্বর নদীতে অবৈধ বাঁধা জাল পাতার আগে-পিছনের সিরিয়াল নিয়ে জেলেদের মধ্যে দ্বিধা-বিভক্তির সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় তুলাতলা ঘাট এলাকায় জেলেদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। চলমান করোনার মধ্যে যে কোন সময় দু’গ্রুপ জেলেদের মধ্যে সংঘর্ষের আশংকা দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে একপক্ষ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানা পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছে। লিখিত অভিযোগর পর পুলিশ ঘটনাস্থল বলেশ্বর নদ তীরবর্তী তুলাতলা এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে অবৈধ জাল পাতা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন।অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার জানখালী গ্রামের মৃত আঃ লতীফের পুত্র জেলে শাহজাহান হাওলাদার প্রায় দীর্ঘদিন ধরে বলেশ্বর নদের তুলাতলা ঘাট এলাকায় নদীতে জাল পেতে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। কিন্তু গত দুই বছর ধরে একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় ইউনিয়ন বিএনপি নেতা জাকির হোসেনের নেতৃত্বে প্রতিপক্ষ একই গ্রামের হালিম হাওলাদারের ছেলে সাইলু তার সামনের সিরিয়ালে থাকা জাল পাতার স্থান দখল নিয়ে বেহেন্ধী জাল পাতা শুরু করে। জেলে শাহজাহান হাওলাদার তার পূর্বে দখল করা ওই স্থানে জালের খেও ফেলতে গেলে প্রতিপক্ষ জাকির ও সাইলু তাকে খুন জখমের ভয়ভীতি দিয়ে তাড়িয়ে দেয়। এ নিয়ে দু’গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। জেলে সাইলুর পক্ষে মৎস্য আড়ৎদার জাকির ও শাহজানের পক্ষে তার জামাই শফিকুল অবস্থান নিলে গত কয়েক দিন ধরে টান টান উত্তেজনা দেখা দেয়। স্থানীয়ভাবে একাধিক বার বৈঠক হলেও জেলেদের মধ্যে কোন সমঝোতা হয়নি। জেলে শাহজাহান হাওলাদার প্রতিপক্ষ জাকিরের বিরুদ্ধে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তার সিরিয়ালের খেও বিক্রি ও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনেন। এ নিয়ে বলেশ্বর নদ এলাকায় পেশাদার জেলেদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।এ ব্যপারে বিএনপি নেতা জাকির হোসেন (মৎস্য আড়ৎদার) তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করলেও নদীতে জাল পাতার জন্য নতুন সিরিয়াল করা হয়েছে বলে স্বীকার করেন।মঠবাড়িয়া থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আব্দুল হক বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে গত রোববার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে জেলেদের মধ্যে সিরিয়াল নিয়ে উত্তেজনা দেখা দেয়ায় অবৈধ জাল পাতা বন্ধ করতে জেলেদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রিপন বিশ্বাস অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চত করে বলেন- বলেশ^র নদীতে অবৈধ জাল পাতা ও সিরিয়াল দরিদ্র জেলেদের কাছে বিক্রি করা সম্পূর্ণ বে-আইনি। এ বিষয়ে তদন্ত করতে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, বলেশ^র নদীতে যাতে অবৈধ বাঁধা ও কারেন্ট জাল পেতে ইলিশের পোণা (জাটকা) ও অন্যান্য মাছের পোণা ধরতে না পারে এজন্য নদীতে টহল জোরদার ও জড়িত অসাধু জেলেদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

No comments:

Post a comment

Post Top Ad

Responsive Ads Here