প্রথম ঘটকালীতেই ধরা লিখেছেন "সাংবাদিক শাকিল আহমেদ" - মঠবািড়য়া সমাচার

শিরোনাম

Post Top Ad

Saturday, 4 April 2020

প্রথম ঘটকালীতেই ধরা লিখেছেন "সাংবাদিক শাকিল আহমেদ"

লেখক শাকিল আহমেদ : বিয়ে করার আগে চিন্তা-চেতনা ছিল নিজের বিয়েটা হয়ে গেলে ঘটকালী শুরু করব। অর্থাৎ আমাদের এলাকায় যাকে বলে ঘটক বা রায়বার। তবে কোন বিনিময় নয়, শুধু মাত্র সওয়াবের আশায়। কারণ এক সময় ছেলে-মেয়ে প্রাপ্ত বয়স্ক হলে এলাকার মুরব্বিরা বিয়ে সাদীর ব্যবস্থা করত। কিন্তু বর্তমান সমাজে এ ব্যাপারে নাক গলাতে অনেকেই নারাজ। প্রযুক্তির দিক দিয়ে আমরা অনেক এগিয়ে গেলেও কোন কোন ক্ষেত্রে সামাজিক দিক দিয়ে পিছিয়ে গেছি। আগের জমানায় ছেলে-মেয়েদের সম্পর্ক করা যতটা কঠিন ছিল, বর্তমান ডিজিটাল যুগে ততটা সহজ। যার ফলে বিয়ে সাদীর ব্যাপারে আত্মীয়-স্বজন অথবা পাড়াপড়শীর মুরব্বীরা আগের মত উঠে-পড়ে কিছু করেন না। আমার খুব ইচ্ছে ছিল প্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে অথবা মেয়ের সন্ধ্যান পেলে তাদের পরিবারের সাথে সমন্বয় করে দেওয়া। আর ইচ্ছে অনুযায়ী উপযুক্ত পাত্র-পাত্রী পেয়ে গেলাম। পাত্রীকে চিনি না। কিন্তু তার বাবার সাথে খুব ভালো সম্পর্ক। আবার পাত্রকে চিনি। কিন্তু তার পরিবারের কাউকে চিনি না। শুরু করলাম ঘটকালী। প্রথমে প্রস্তাব দিলাম মেয়ের বাবার কাছে। পরে দিলাম সরাসরি ছেলের কাছে। তবে ছেলেকে অর্থাৎ পাত্রকে সব সময় আমার কাছে খুব আপন মনে হতো। পাত্রকে নিয়েই আমার সামনের দিকে চলা। কিন্তু কাজ হবে কি? আমি পাত্রকে যতটা সামনের দিকে নিয়ে গেছি, সে আমাকে ততটা পিছনের দিকে ঠেলে দিয়েছে। মেয়ে পক্ষের বায়োডাটা দেওয়ার পর ছেলে আমার সাথে যোগাযোগ কমিয়ে দেয়। ছেলের স্বজনরা সরাসরি মেয়ে পক্ষের সাথে আলাপ-আলোচনা শুরু করে। আমি যে সমন্বয়ক অথবা ঘটক বা রায়বার এটা ছেলে তার স্বজনদের কাছে বলেনি বিধায় তারাও এর উৎস খোঁজেনি। কিন্তু মেয়ের বাবা আমার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করত। যাই হোক উভয় পক্ষের আলোচনা শেষে বিয়ের দিন ধার্য হলো। মেয়ের বাবা আমাকে ঘটক অথবা রায়বার হিসেবে প্রধান্য দিয়ে সেভাবেই দাওয়াত দিল। কিন্তু ছেলে আমার মোবাইলে একবার ফোন দিয়ে ফরমালিটি রক্ষা করল। ছেলে এবং ছেলে পক্ষের আচরণে সিদ্ধান্ত নিলাম বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়াটা ঠিক হবেনা। কিন্তু ঘটনাক্রমে আমি বিয়ের দিন ওই শহরে হাজির। মাগরিবের নামাজের জন্য মসজিদের কাছে যেয়ে দেখি পরিচিত লোকজন। জিজ্ঞেস করতে না করতেই তারা বলে দিল অমুকের বিয়ে। আমি শোনার সাথে সাথে দৌঁড়ে পালালাম (কারণ মেয়ের বাবা আমাকে দেখলে মনে কষ্ট পাবে)। আর মনে মনে ভাবলাম প্রথম ঘটকালীতেই ধরা!

No comments:

Post a comment

Post Top Ad

Responsive Ads Here